মেনু নির্বাচন করুন
খবর

করোনা আটকাতে পারেনি রাজশাহীর কৃষি ফেরিওয়ালাদের

The Daily Observerber News
করোনা আতঙ্কে থেমে নেই বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত গোদাগাড়ীর কৃষি। লকডাউনে চারিদিকে যখন থমথমে অবস্থা, তখন কৃষকের কর্মতৎপরতা ও কৃষির চাকা সচল রাখতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ছুটছেন কৃষকের বাড়ি বাড়ি। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি ফেরি করছেন কৃষি সেবা। একসময়ের খাঁ খাঁ মরুভূমি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা এখন দেশের জন্য সমৃদ্ধ শস্যভান্ডার।
 
১৫-১৬ বছর পূর্বেও গোদাগাড়ীর বরেন্দ্র অঞ্চল ছিল মরুভূমির ন্যায়। বৃষ্টির পানির উপর নির্ভর করে একটি মাত্র ফসল ধান চাষ হত। জমির দামও তেমন ছিলনা সে সময়ে। কালের বিবর্তনে এবং গোদাগাড়ী কৃষি অফিস কর্মকর্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে এই অঞ্চলে কৃষি বিপ্লব ঘটতে থাকে। এখন দেশের অন্যতম কৃষি ভান্ডার হিসেবে দেশে গোদাগাড়ী স্থান করে নিয়েছে।
 
আর এর মুলে রয়েছে গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাগণ। এই করোনাভাইরাসের সময়ে সাধারণ ছুটি ও পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের মাঝেও সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক স্বাভাবিক রয়েছে কৃষি সেক্টরের সকল কার্যক্রম। কৃষকের নিকট মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা দিনরাত ছুটছেন জরুরি সেবা নিয়ে। আগাম বন্যার পূর্বাভাসে হাওর অঞ্চলের ধান উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা দেখা দেওয়ায় সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোর দিয়েছেন আউশ উৎপাদনের দিকে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে লোকসমাগম নিষিদ্ধ হওয়ায় এবার প্রণোদনা কার্যক্রমের বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ চলছে ভিন্ন কৌশলে।
 
কৃষকদের উপজেলা চত্বরে জমায়েত না করে গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রণোদনা উপকরণ পৌঁছে যাচ্ছে কৃষকের দোরগোড়ায়। করোনা মহামারীকালীন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করেছেন কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তা মতিয়র রহমান ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ।
 
উপজেলা কৃষি অফিসারের নেতৃত্বে চলমান কার্যক্রমে এ পর্যন্ত তারা প্রায় গোদাগাড়ীর দেড় হাজার মানুষের নিকট প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছে দিয়েছেন। করোনা পরবর্তী সময়ে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে যত দ্রæত সম্ভব আউশের বীজতলায় নিয়ে যেতে হবে কৃষকদের। তাই সাধারণ ছুটি থাকলেও সপ্তাহের অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবার ও শনিবারেও পূর্ণভাবে চলমান রয়েছে কৃষি সেবা কার্যক্রম।
 
বিনামূল্যে সার ও বীজ প্রণোদনা প্যাকেজে রয়েছে জনপ্রতি ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার এবং ৫ কেজি উফশী আউশ বীজ। খুব শীঘ্রই এ কার্যক্রমের দ্বিতীয় পর্যায়ের বিতরণ আবার শুরু হবে। বিশাল এ কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি স্বাভাবিক রয়েছে বিভাগীয় সকল কাজ। গোদাগাড়ীর মাঠে চলমান রয়েছে বোরো ধান, গম, ভূট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, বিভিন্ন শাকসবজি ফসলের কাজ। পরিবর্তিত আবহাওয়ায় ধান ফসলে বøাস্ট রোগের অনুক‚ল পরিবেশ বিরাজমান থাকায় অব্যাহত রয়েছে কৃষি পরামর্শ সেবা।
 
চলছে গম ক্রয়ের কৃষক তালিকা তৈরি, বিভিন্ন প্রকল্পের প্রদর্শনী বাস্তবায়ন, সার-বীজসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখা, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত প্রতি ইঞ্চি জমির ব্যবহারে কাজ করা, শ্রমিক সংকট কাটাতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও সেচযন্ত্রসহ সকল কৃষিযন্ত্র এবং খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয়-বিক্রয় অব্যাহত রাখা ইত্যাদি।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে কৃষি বিভাগ কৃষকের পাশে থেকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কখনো মোবাইল মনিটরিং, কখনো ফোনের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্স করে মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন, কখনোবা নিজেই ছুটে যাচ্ছেন মাঠে-মানুষের মাঝে।
 
এ যেন দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে চলমান এক মহাকর্মকান্ড। প্রাণঘাতী করোনা তাদের দমাতে পারেনি বরং তাদের কর্মব্যস্ততা বাড়িয়েছে। নিজের প্রাণনাশের আতঙ্ক থাকলেও কৃষি সেবা নিয়ে ছুটে চলেছেন ৪৭৫ বর্গকিলোমিটারের আনাচে-কানাচে। বিস্তীর্ণ মাঠে সবুজ ধানের দোলখাওয়া শীষের হাসিতে সে কথা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সোনালী স্বপ্ন দেখা বাংলার কৃষকের সাথে কৃষি বিভাগ রয়েছে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে।
 
প্রসঙ্গত, বিভাগীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে উপজেলার বিভিন্ন কমিটির সদস্য হিসেবে এবং ট্যাগ কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
 

ছবি


ফাইল


প্রকাশনের তারিখ

২০২০-০৪-২০

আর্কাইভ তারিখ

২০২৯-১২-৩১


Share with :

Facebook Twitter